যাত্রাবাড়ীতে ২০ কুকুর হত্যার দায়ে তিনজনের আড়াই বছরের কারাদণ্ড
· Prothom Alo

রাজধানীর উত্তর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ২০টি কুকুরকে হত্যার দায়ে পৃথক ধারায় তিন আসামিকে আড়াই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন মো. আবুল খায়ের, মো. অপু ও মো. মানিক।
Visit livefromquarantine.club for more information.
আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯-এর ১৬(ক) ধারায় প্রত্যেককে ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া একই আইনের ১৬(খ) ধারায় প্রত্যেককে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই জরিমানা পরিশোধ না করলে তাঁদের আরও ১৫ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায় ঘোষণার সময় আসামি মো. মানিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুই আসামি আবুল খায়ের, অপু পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ীর ধলপুর লিচুবাগান এলাকায় লোহার রড, সাঁড়াশি ও প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে ২০টি কুকুর হত্যা করা হয়। পরে মৃত কুকুরগুলো বস্তায় ভরে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই নৃশংসতার ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছিল। কুকুর হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করায় আসামিরা মামলার বাদী মো. মারুফুল হক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অ্যানিমেল লাভারস অব বাংলাদেশ’-এর কর্মীদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এ ঘটনায় দুদিন পর অ্যানিমেল লাভারস অব বাংলাদেশের পক্ষে আদালতে মামলা করেন মো. মারুফুল হক। তদন্ত শেষে পুলিশ তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ২০২৪ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ এই রায় দিলেন আদালত।