ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্যের সঙ্গে ডাকসু নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

· Prothom Alo

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতারা  সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার রাতে উপাচার্যের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাতে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তাঁরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও দাবি নিয়ে আলোচনা করেন।

Visit turconews.click for more information.

সৌজন্য সাক্ষাতে ডাকসুর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি  (ভিপি) সাদিক কায়েম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মহিউদ্দিন খান।

সাক্ষাৎকালে ডাকসু নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার লক্ষ্যে সিট বরাদ্দের একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে অটোমেশনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। বিশেষ করে, রি-এড গ্রহণকারী বা বিশেষ বিবেচনায় অনিয়মিত (৬-৭ সেশন) শিক্ষার্থীদের হলে সিট বরাদ্দ বন্ধ করে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়।

ডাকসু নেতাদের এই দাবির সঙ্গে উপাচার্য একমত পোষণ করেন এবং এ বিষয়ে একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ নীতিমালা তৈরির আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের এই সংকট দ্রুত নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

সাক্ষাৎকালে ডাকসু নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সংস্কার-পরবর্তী শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা চালু করতে বিদ্যমান বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসনের দাবি জানান। একইসঙ্গে টিএসসিসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ঘোষিত ২ কোটি টাকার বাজেট দ্রুত বাস্তবায়ন এবং শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতির বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার মেগা উন্নয়ন প্রকল্প এবং চীনের সহযোগিতায় প্রস্তাবিত নতুন হল নির্মাণের বর্তমান অবস্থা ও এর কাজের গতি বাড়ানোর বিষয়েও উপাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ডাকসু নেতারা।

সাক্ষাৎকালে ডাকসু নেতৃবৃন্দ ছাত্রীদের হলগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অ্যাক্সেস কন্ট্রোল গেট স্থাপনের জোর দাবি জানান। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ গমনে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ওই-মেইল ভেরিফিকেশন ফি বাতিলের দাবিও উত্থাপন করা হয়। একইসঙ্গে শহীদ ওসমান হাদির কবর যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধন এবং ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি প্রস্তাবিত আকারে ব্যবহারের জন্য প্রস্তাব করা হয়।

সৌজন্য সাক্ষাতকালে ডাকসু নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম ভবন, মোতাহার ভবন ও কার্জন হল এলাকায় ক্যান্টিন নির্মাণ ও চালুর অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে দায়িত্ব দেন উপাচার্য। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক মুসা খাঁ মসজিদের সংস্কারকাজ দ্রুত শুরুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও অভিমতগুলো শোনার জন্য উপাচার্যের সঙ্গে দুই ধাপে মতবিনিময় সভা আয়োজন করার পরামর্শ দেন ডাকসু নেতারা। প্রথম দফায় ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে এবং দ্বিতীয় দফায় হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।

ডাকসু নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও দাবি আদায়ে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উপাচার্যও এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (প্রশাসন) সায়মা হক বিদিশা, প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এবং অ্যাথলেটিক্স কমিটির সভাপতি অধ্যাপক এস এম আরিফ মাহমুদ।

Read full story at source