ফ্যামিলি কার্ড-কৃষক কার্ড আরও ফলপ্রসূ হবে কীভাবে

· Prothom Alo

‘কার্ড’–ধর্মী কর্মসূচি নিশ্চিতভাবে রাজনৈতিকভাবে যেকোনো দলকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে এগিয়ে রাখবে; কিন্তু বাজারব্যবস্থা, উৎপাদন ও শিল্প-সম্পর্কের সংস্কার এগিয়ে দেবে সমগ্র বাংলাদেশকে। ফ্যামিলি কার্ড-কৃষি কার্ড কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে লিখেছেন আলতাফ পারভেজ

Visit sportbet.rodeo for more information.

বাংলাদেশে নতুন পার্লামেন্ট ও নতুন সরকারের প্রায় দেড় মাস হলো। এ সময়ের মধ্যে সরকারের আলোচিত দুটি উদ্যোগ হলো পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড চালু এবং কৃষি কার্ড চালুর ঘোষণা দেওয়া।

নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি বলেছিল, ‘পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মৎস৵চাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিদের কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে। নির্বাচনের আগে-পরে দলের প্রধান তারেক রহমান একাধিকবার ধাপে ধাপে ‘চার কোটি ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার কথা বলেছেন। এ রকম কার্ডধারী পরিবার মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পাবে। খাদ্যসামগ্রী আকারেও সহায়তা পেতে পারে।

অন্যদিকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে চাষিরা ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক, ভর্তুকি, প্রণোদনা ইত্যাদি পাবেন বলে সরকার থেকে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সুবিধা পাওয়া যাবে ন্যায্য দামে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির।

একটি কর্মসূচি ইতিমধ্যে চালু হয়েছে। অন্যটি এপ্রিলে চালু হবে বলে শোনা যাচ্ছে। উভয় উদ্যোগ পাইলট ভিত্তিতে কিছু উপজেলায় চালু হচ্ছে শুরুতে। বিএনপি যে ক্ষমতা পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েই নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে, এট প্রশংসাযোগ্য। প্রশংসিত হচ্ছেও।

তারেক রহমানের সরকার ঈদের আগে আগে পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতার সমস্যা যেভাবে মিটিয়েছে, সে–ও অনেকের প্রশংসার বিষয় হয়েছে। প্রধান শিল্প খাত রপ্তানিমুখী পোশাক তৈরির কারখানাগুলোতে অনেক মালিক বেতন-বোনাস ছাড়াই শ্রমিকদের ঈদের ছুটিতে পাঠাতে চেয়েছিলেন। সরকার ফ্যাক্টরির মালিকদের আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়ে বেতন-বোনাস দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

শ্রমিকদের দিক থেকে এটা সন্তোষজনক। তবে টাকাটা সরকারের দিক থেকে হয়তো ঋণসহায়তা বা অন্য কোনো সহায়তা হিসেবে গেল, মালিকদের আয় বা মুনাফা থেকে নয়। ক্রমাগত প্রবৃদ্ধিতে আছে, এমন একটি শিল্প খাতের মালিকদের সরকার থেকে সহায়তা দিয়ে বেতন-বোনাস দেওয়ানো আপাতদৃষ্টে সন্তুষ্টি তৈরি করলেও দীর্ঘ মেয়াদে শিল্প বা রাষ্ট্রীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য কতটা স্বাস্থ্যকরসেই প্রশ্ন থেকেই গেল।

কোথাও আগুন লাগলে তাৎক্ষণিক আগুন নেভাতে হবে—এটিই করণীয়। সরকার সেই কাজ করেছে। সংসদ সদস্যদের তালিকায় অন্তত ১৬ জন সদস্য আছেন পোশাক খাতেরসেটিও হয়তো এ ক্ষেত্রে বিবেচনাযোগ্য একটি বিষয়। তবে ‘ফায়ার ফাইটার’ হিসেবে যে কারও এটিও দেখা দরকার, বিশেষ বিশেষ জায়গায় কেন বারবার ‘আগুন’ লাগে। আগুনের স্থায়ী উৎস চিহ্নিত করে সেটি দমনই সম্ভবত দূরদর্শী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনার লক্ষণ। ঈদের আগে-আগে যখন মার্চের শেষার্ধ্ব চলছে; জানা গেল ৮০০ রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় ফেব্রুয়ারির বেতন বাকি। এটি সংবাদমাধ্যমকে শিল্প পুলিশের দেওয়া তথ্য ছিল। (টিবিএস, ১৮ মার্চ ২০২৬)

পোশাক তৈরির শিল্প যদি লাভজনক খাত হয়, তাহলে এ রকম কেন হবে? বিজিএমইএর এ রকম কোনো বিশেষ তহবিল নেই কেন আজও? ঈদ এলেই এভাবে বেতনবোনাস আদায়ের প্রবণতা প্রতিটি উৎসবের আগে বিজিএমইএর অভ্যাসে পরিণত হবে না, তার নিশ্চয়তা কী? তা ছাড়া বিজিএমইএ সদস্যদের এ রকম কৌশল অন্য খাতেও সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি তো থাকছেই। তা ছাড়া তৈরি পোশাক খাতের এসব কারখানা যদি রুগ্‌ণ শিল্প হয়, তাহলে সরকারি সহায়তায় এসব রক্ষা কতটা সংগত? পাটশিল্প সেভাবে রক্ষা করা হয়নি। তখন প্রতিযোগিতামূলক বাজার অর্থনীতির কথা বলা হতো।

এবারের নির্বাচনী ইশতেহারেও (তৃতীয় অধ্যায়ে) বিএনপি ‘মুক্তবাজারমুখী নীতি’র কথা বলেছে। জামায়াতে ইসলামীও সেটি বলেছে। জাতীয় পার্টি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অর্থনৈতিক নীতিও একই রকম। প্রধান দলগুলোর নীরব ‘জাতীয় ঐকমতে৵’র যে ব্যবস্থায় অর্থনীতি চলছে, তাতে পুঁজি বিনিয়োগকারী ও উৎপাদনযন্ত্রের মালিক ও শ্রম বিক্রেতাদের যে ভিন্ন পরিণতি হবে, সেটি অস্বাভাবিক নয়। এ রকম অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সুষম বা অসম যেটিই হোক, তাতে কিছু মানুষ দারিদ্র্যরেখার নিচে পড়ে যাবেন, এটিও রূঢ় বাস্তবতা। সেই পথেই বাংলাদেশে এখন ২৮ ভাগ মানুষ দরিদ্র।

বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারেই এ তথ্য দিয়েছিল। সেখানে দলটি এ–ও বলেছে, ‘দারিদ্র্য কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, এটি অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত সংকট।’ প্রকৃতই তা–ই। বাংলাদেশের দারিদ্র্য সমস্যার এটিই বিজ্ঞানমুখী বিশ্লেষণ। এ রকম কাঠামোগত সংকটের নিশ্চয়ই কাঠামোগত সমাধান প্রয়োজন। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোকে আমরা কি কাঠামোগত সমাধান হিসেবে ধরতে পারি?

কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি প্রয়োজন

নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপির দেওয়া হিসাবেই দেশে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ দরিদ্র। দরিদ্র মানে এরা কর্মসংস্থান, ভোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ সব ক্ষেত্রে বিপন্ন আছে। সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামোগত বাধা এসব মানুষকে নাগরিক জীবনের সব পরিসরে পিছিয়ে দিচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, তিন বছর ধরে দেশে দারিদ্র্য কমার বদলে উল্টো স্রোত বইছে। জনসংখ্যার হিসাবে দরিদ্র মানুষের হিস্যা বাড়ছে।

দারিদ্র্য একটি চক্রের মতো। যে পরিবার কম খায়, তারা অপুষ্টিতে ভোগে। যারা অপুষ্টিতে ভোগে, তারাই স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়ে। যারা বেশি স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়ছে, তারাই আয়-রোজগারে পিছিয়ে পড়ে এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ও অধিক দরিদ্র অবস্থার শিকার হয়। কাঠামোগত এই সংকটের সমাধান বাছাই করা কিছু পরিবারকে মাসে মাসে কিছু টাকা দিয়ে সমাধান করা যাবে কি না, সেটি অবশ্যই এক বড় প্রশ্ন।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘খানা আয়-ব্যয় জরিপ-২০২২’–এর তথ্য-উপাত্ত নিয়ে বিগত সরকারের আমলে কে এ এস মুরশিদের নেতৃত্বে গঠিত অর্থনৈতিক কৌশলসংক্রান্ত টাস্কফোর্স তাদের প্রতিবেদনে (পৃ. ৪০৮) বলেছিল, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধে৵ চরম দারিদ্র্য কমাতে পেরেছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ মাত্র।

এটি সত্য, দরিদ্র সমাজে মাঝেমধে৵ নগদ টাকার সরবরাহ বাড়লে সেটি ‘বাজার’কে চাঙা করে। তাতে চাহিদা ও ভোগ পরিস্থিতির উন্নতি হয়। বাংলাদেশে এ মুহূর্তে সেটিও হয়তো দরকার। শিল্প–উৎপাদকেরা তাতে উপকৃত হবেন। কিন্তু বাজারকে দীর্ঘ মেয়াদে চাঙা করতে দরিদ্র সমাজের জন্য শক্তিশালী আয়–সহায়তা দরকার। অর্থাৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রয়োজন বেশি।

নিশ্চয়ই ফ্যামিলি কার্ড অনেক রান্নাঘরে কয়েক দিনের জন্য স্বস্তি তৈরি করবে। এটিও জরুরি; কিন্তু লাভজনক শিল্প খাতেও কেন শ্রমিকদের বেতন শ্রম আইনের বিধানমতো পরের মাসের নির্দিষ্ট সময়ের ভেতরে দেওয়া হয় না, তার কারণ অনুসন্ধান প্রয়োজন। তার আলোকে বাংলাদেশের চলমান উৎপাদন সম্পর্কের সংস্কার দরকার। সেটি না হলে নতুন নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে প্রশংসা কুড়ালেও এবং দরিদ্র সংসারগুলোর নিত্যনাজুকতার কিছু লাঘব হলেও দারিদ্র্য পরিস্থিতির সামাজিক অবনতি ঠেকাতে পারবে না।

 ঈদ এলে জনগণের টাকায় বেতন দেওয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আকর্ষণ তৈরি করতে পারে; কিন্তু এই ‘মডেল’ শিল্প, শ্রমিক ও অর্থনীতিকে পুরোনো বন্দোবস্তেই রেখে দেয় কি না, সেটিও ভাবা দরকার। ভর্তুকি, প্রণোদনা বা ‘ সেফটি নেট’—সবকিছুই বাজেটের আগে-পরে কর বা ভ্যাট বাড়িয়ে সমন্বয় করতে হবে সরকারকে। সেটি মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে পরিস্থিতি অসহনীয় করে তুলতে পারে অথবা বাজেট ঘাটতি বাড়াবে।

বিএনপি নিশ্চয়ই জানে, বাংলাদেশে এমনও শিল্প খাত রয়েছে, যেখানে দৈনিক মজুরি ২০০ টাকার কম। এ রকম মানুষের একাংশকে মাসে আড়াই হাজার টাকা করে বাড়তি সহায়তা দেওয়ার চেয়ে ওই শিল্প–সম্পর্কের ন্যায্য সংস্কারই কি সমস্যার সর্বজনীন ভালো সমাধান নয়? সেটি হয়তো ওই সব খাতের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের বিব্রত করবে।

কোনো দল যদি প্রকৃতই ‘সবার আগে বাংলাদেশ’কে রাখতে চায়, তাহলে ব্যবসায়ীদের ‘বিব্রত’ করার ঝুঁকি তো নিতেই হবে; এমনকি তারা যদি বড় সংখ্যায় পার্লামেন্ট সদস্যও হয়ে থাকে। একইভাবে কৃষি কার্ডের পাশাপাশি বীজ, সার ও কীটনাশকের বাজারেও ব্যবসায়ীদের বিব্রত করার মতো ব্যাপক সংস্কার দরকার।

কৃষি খাতে বহুমুখী এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার দরকার

কৃষি খাতের সমস্যাগুলো প্রকৃতই অনেক জটিল। বিএনপি শুরুতেই যে সেদিকে মনোযোগ দিচ্ছে, এটা শুভ লক্ষণ। কৃষকেরা ন্যায্য দামে উৎপাদন উপকরণ চায়, আবার উৎপাদিত ফসলেরও ন্যায্য মূল্য প্রয়োজন তাদের। সংখ্যাগরিষ্ঠ চাষি এখন ভূমিহীন বর্গাচাষি। তাদের জমিতে মালিকানা নেই, বীজের ওপর মালিকানা নেই; সার, কীটনাশক, সেচব্যবস্থা ইত্যাদির ওপরই নিয়ন্ত্রণ নেই। আছে স্রেফ শ্রম।

জমির মালিকেরা এখন সামান্যই চাষাবাদে আছেন। অনেকে তাঁরা শহরে থাকেন। গ্রামে যেহেতু বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তেমন নেই, সে কারণে দরিদ্র শ্রমজীবীরা বর্গা নিয়ে জমি আবাদ করেন। সে-ই আবাদ আবার অতিরিক্ত পরিমাণে সার ও কীটনাশকের ব্যবহারে নীরব এক স্বাস্থ্যঝুঁকির চেহারা নিচ্ছে।

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যত রোগী আসছেন, তাঁদের তিন ভাগের এক ভাগই দেখা যাচ্ছে পেশায় কৃষক। সংখ্যাটা ঊর্ধ্বমুখীও বটে। নিয়ন্ত্রণহীন শিল্পবর্জে৵র পার্শ্বফল হিসেবে সিসা, দস্তা, ক্রোমিয়াম ও আর্সেনিকে বাংলার মাটি আজ বিষাক্ত।

উপরন্তু আবাদের আগে কৃষক জানেন না, তাঁর আসন্ন পণ্যের চাহিদা কী চেহারা নেবে। চাহিদা ও সরবরাহের নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত না থাকার কারণেই আলু-পেঁয়াজসহ নানা পণ্যে অধিক ফসল ফলিয়ে দু–এক বছর পরপর উৎপাদকেরা লোকসানে পড়েন। নির্ভরযোগ্য কৃষিতথ্য ব্যাংক না থাকায় ঘাটতি কিংবা উদ্বৃত্ত মোকাবিলায় সরকারও সময়মতো পদক্ষেপ নিতে পারে না।

এসব মিলে কৃষি খাতের সমস্যার সমাধান করতে বহুমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার–উদ্যোগ লাগবে। অনুপস্থিত ভূমিমালিকদের জমি ফেলে রাখা বন্ধ করা থেকে শুরু করে চাষিদের ধীরে ধীরে জৈব কৃষিতে টেনে আনা পর্যন্ত করণীয় বহু।

বীজের বাজারটি অনেকাংশেই এখন গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর দখলে। বিএডিসি এ ক্ষেত্রে আজও পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ভরসা হয়ে উঠতে পারেনি। সারও আমদানিনির্ভর। অনেক সময়ই তা সহজলভ্য থাকে না। এসব খাতের দীর্ঘমেয়াদি কৃষকবান্ধব টেকসই সমাধান প্রয়োজন।

সরকার কৃষিকার্ডধারীদের কৃষিপণ্যে ন্যায্য দাম দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। সবার কৌতূহলসেটি কীভাবে করা হবে? এ মুহূর্তে কৃষিপণ্যের জাতীয়ভিত্তিক তেমন কোনো বিকল্প বিপণনব্যবস্থা নেই। যার অভাবে দেশে সব পণ্যের দাম উৎপাদক নির্ধারণ করলেও একমাত্র কৃষিপণ্যের দাম নির্ধারণের সুযোগ চাষির হাতে নেই।

কৃষি কার্ডের প্রচলন যেন এ রকম সমস্যাগুলোর বাস্তব সমাধান দিতে সক্ষম হয়, সেটিই মাঠপর্যায়ের প্রত্যাশা। এটি যেন কেবল ভর্তুকিভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি না হয়ে কৃষি খাতের সংস্কারধর্মী উদ্যোগ হয়, গ্রামীণ সমাজের সে রকমই আশা।

 কৃষি খাত এ মুহূর্তে আমূল বদল এবং নতুন ধারার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ দাবি করছে। সেই প্রত্যাশা পূরণ না হলে গ্রামীণ দরিদ্রদের শহরে আসা আগামী দিনে সুনামির চেহারা নিতে পারে। দারিদ্র্য ও বৈষম্যের কাঠামোগত সমাধান হিসেবে গ্রাম-শহরের দরিদ্র সমাজ বিশেষভাবে শোভন কাজ ও শোভন মজুরির টেকসই উদ্যোগ চাইছে নীতিনির্ধারকদের কাছে। নিশ্চয়ই সেটি কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং ভর্তুকি–ভাবনার পাশাপাশি অতিরিক্ত কিছু।

‘কার্ড’–ধর্মী কর্মসূচি নিশ্চিতভাবে রাজনৈতিকভাবে যেকোনো দলকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে এগিয়ে রাখবে; কিন্তু বাজারব্যবস্থা, উৎপাদন ও শিল্প-সম্পর্কের সংস্কার এগিয়ে দেবে সমগ্র বাংলাদেশকে। সরকার গঠনকারী দল সে রকম স্লোগানই দিয়েছিল গত ১২ ফেব্রুয়ারির আগে। ১৯ মাস আগের গণ–অভ্যুত্থানও বলছিল সম্ভাব্য নতুন বন্দোবস্তের কথা।

  • আলতাফ পারভেজ গবেষক ও লেখক

    মতামত লেখকের নিজস্ব

Read full story at source