যন্ত্র নিয়ে কর্মশালা: ঘণ্টায় ৫০০ কেজি আলু বাছাই, কেজিপ্রতি খরচ ১২ পয়সা

· Prothom Alo

ঘণ্টায় ৫০০ কেজির বেশি আলু বাছাই হবে; কেজিপ্রতি খরচ মাত্র ১২ পয়সা। কৃষিতে এমন ব্যয়সাশ্রয়ী ও দ্রুত প্রযুক্তির সম্ভাবনা সামনে এনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) স্বয়ংক্রিয় আলু বাছাইকরণ যন্ত্র নিয়ে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এই কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার (বিএইউআরআইসি)।

‘অটোমেটেড রিয়েলটাইম গ্রেডিং সিস্টেম ফর এক্সপোর্ট কোয়ালিটি পটেটো ইউজিং মেশিন ভিশন টেকনিক’ শীর্ষক এই কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বয়ংক্রিয় আলু বাছাইকরণ যন্ত্র উদ্ভাবন গবেষণার প্রধান গবেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে আলু বাছাইয়ের কাজ মূলত সনাতন পদ্ধতিতে করা হয়। এটি সময়সাপেক্ষ, শ্রমনির্ভর ও মান নির্ধারণে ভিন্নতা তৈরি করে। এ সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতেই আমরা অটোমেটেড পটেটো গ্রেডার উদ্ভাবন করেছি।’

Visit newsbetting.club for more information.

যন্ত্রটির সর্বশেষ অর্থাৎ তৃতীয় সংস্করণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান প্রধান গবেষক। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা তৃতীয় ভার্সন নিয়ে কাজ করছি। এই যন্ত্র দিয়ে ঘণ্টায় ৫০০ কেজির বেশি আলু বাছাই করা সম্ভব এবং প্রতি কেজি আলু বাছাইয়ে খরচ হয় মাত্র ১২ পয়সা। এটি সনাতন পদ্ধতির তুলনায় প্রায় ৭০ গুণ সাশ্রয়ী। পূর্বের সংস্করণে পিক্সেলভিত্তিক বিশ্লেষণের কারণে গতি কম ছিল। আগে ব্যবহৃত ক্যামেরা মিনিটে মাত্র ১৪টি ছবি বিশ্লেষণ করতে পারত। এখন ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিসিডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি সেকেন্ডে ৫৩৯টি ছবি নিতে পারে। ফলে গ্রেডিংয়ের গতি ও নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’

যন্ত্রের কার্যপদ্ধতির বিষয়ে প্রধান গবেষক জানান, দেশি উপকরণ ব্যবহার করে দেশেই এই যন্ত্র তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে গবেষণা পর্যায়ে পরীক্ষণ শেষ হয়েছে, খুব শিগগিরই মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ শুরু হবে।

এর আগে কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ও প্রধান সহযোগী গবেষক রোস্তম আলী। তিনি বলেন, ‘বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে আলুর উৎপাদন ছিল প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে মোট চাহিদা ছিল ৯০ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ ২৫ লাখ মেট্রিক টন আলু রপ্তানি করার সম্ভাবনা আছে। স্বয়ংক্রিয় এই যন্ত্রটির মাধ্যমে আলুর সংরক্ষণকালীন পচন কমিয়ে রপ্তানিযোগ্য মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আলুর প্রক্রিয়াজাতকরণ–সংশ্লিষ্ট ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে মানসম্পন্ন আলু সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি গ্রেডিংয়ের ভিত্তিতে কৃষক আলুর ন্যায্য মূল্য পাবেন।

কর্মশালায় উপাচার্য এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, এটি একধরনের রিয়েলটাইম সর্টিং বা গ্রেডিং মেশিন। স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলুর শারীরিক গঠন বা বহিরাবরণ পর্যবেক্ষণ করবে। ছবি ব্যবহার করে আকারের ওপর ভিত্তি করে আলু বাছাই করবে। বাছাই করা আলু পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট কিছু কাজে ব্যবহার করা যাবে। উন্নত বিশ্বে চিপস বা অন্যান্য যা কিছু তৈরি হয়, তা অবশ্যই মানসম্মত বা বাছাই করা আলু দিয়েই হয়। এই প্রযুক্তির ব্যবহার অবশ্যই আলু রপ্তানির সুযোগ বাড়াবে।

অনুষ্ঠানে কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টারের প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল আওয়ালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএইউআরআইসির সভাপতি খন্দকার মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন আব্দুল মজিদ।

Read full story at source