রমজানে কীভাবে নিজেকে সংযত রাখবেন

· Prothom Alo

রমজান মুমিনের জীবনে আত্মশুদ্ধির দীক্ষা নিয়ে আসে। পুরো এক মাসের সাধনা মানুষের হৃদয়কে পাপ ও অবাধ্যতা থেকে পরিষ্কার করে। হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ ও লোভের মতো অন্তরের রোগ থেকে আরোগ্য লাভের সুযোগ এনে দেয়।

তাকওয়া অর্জন, আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও আত্মসংযমের পথ খুলে দেয়। রোজাদার ব্যক্তি আত্মিক উন্নতির পাশাপাশি পরকালীন সাফল্য ও নেকি অর্জন করেন। এ ইবাদত তাকে জান্নাতের বিশেষ দরজা রাইয়ান লাভের মর্যাদায় উন্নীত করে।

Visit xsportfeed.life for more information.

তাকওয়া অর্জন

রমজানের প্রধান উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন। মহান আল্লাহ বলেন, “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৩)

তাকওয়া শব্দটি সাধারণভাবে আল্লাহর আনুগত্য ও ছোট-বড় সব পাপ থেকে বিরত থাকার অর্থে ব্যবহৃত হয়।

রোজাদার ব্যক্তির কাজ হলো, কেবল বড় গুনাহ নয়, নিজেকে সব ধরনের গুনাহ থেকে দূরে রাখবেন। তাহলে তিনি আল্লাহর রহমত, করুণা ও ক্ষমা লাভ করবেন।

রোজাদার ব্যক্তির কাজ হলো, কেবল বড় গুনাহ নয়, নিজেকে সব ধরনের গুনাহ থেকে দূরে রাখবেন। তাহলে তিনি আল্লাহর রহমত, করুণা ও ক্ষমা লাভ করবেন।

আল্লাহর নৈকট্য লাভ

রোজাদার ব্যক্তি যখন পাপাচার থেকে বিরত থাকেন, তখন তিনি আল্লাহর নৈকট্যের দিকে অগ্রসর হন। রমজান মাসে ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল ইবাদত বেশি করা উচিত, যাতে মহান আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া যায়।

রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ বলেন, “আমার বান্দা সর্বদা নফল ইবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। এমনকি আমি তাকে আমার এমন প্রিয় পাত্র বানিয়ে নিই যে, আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শোনে। আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আর আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমিই তার পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে চলে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৫৮)

রমজানে নবীজির (সা.) সফর হলে

সংযম বাড়াতে এই সময় বেশি বেশি নফল ইবাদত করা জরুরি। রমজান মাসে এর সওয়াবও বেশি। রমজানের ইবাদতের বরকতে ব্যক্তির হৃদয় পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। আবার বরকতপূর্ণ মাসে সকল নফল ইবাদতও অধিক মর্যাদাপূর্ণ হয়ে যায়।

চিন্তা ও জিকিরের জন্য নির্জনতা

রোজার মাধ্যমে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখা যায়। অল্প আহার করুন, এটা মানুষকে চিন্তা, আত্মবিশ্লেষণ ও জিকিরে মনোযোগী করে। অতিরিক্ত পানাহার গাফলতিতে ডুবিয়ে দেয়, হৃদয় কঠিন করে এবং সত্য উপলব্ধির ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

মহান আল্লাহ বলেন,“অতঃপর তাদের পর এমন লোকেরা এল, যারা নামাজ নষ্ট করল এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করল; অচিরেই তারা পথভ্রষ্টতার শাস্তি ভোগ করবে।”(সুরা মারইয়াম, আয়াত: ৫৯)

সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৮০মানুষ পেটের চেয়ে মন্দ কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। পিঠের দাঁড়া সোজা রাখার মত কয়েকটি গ্রাসই আদম সন্তানের জন্য যথেষ্ট। যদি বেশি খেতেই হয়, তবে এক-তৃতীয়াংশ খাবার, এক-তৃতীয়াংশ পানি এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাসের জন্য রাখবে।”

রাসুল (সা.) পানাহারে সংযমের নির্দেশ দিয়েছেন।

মিকদাম ইবনে মাদিকারিব (রা.) বলেন, “মানুষ পেটের চেয়ে মন্দ কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। পিঠের দাঁড়া সোজা রাখার মত কয়েকটি গ্রাসই আদম সন্তানের জন্য যথেষ্ট। যদি বেশি খেতেই হয়, তবে এক-তৃতীয়াংশ খাবার, এক-তৃতীয়াংশ পানি এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাসের জন্য রাখবে।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৮০)

রোজাদারের জন্য উচিত হল অতিরিক্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা। যেন এটি তাকে আল্লাহর জিকির ও পরকালীন চিন্তা থেকে বিমুখ না করে ফেলে।

সম্পদের মূল্য উপলব্ধি

রোজা অবস্থায় আমরা পানাহার ও বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকি। এটি আমাদের শেখায়—খাদ্য, পানি ও বৈবাহিক সম্পর্ক আল্লাহর বড় নেয়ামত। পৃথিবীতে বহু মানুষ এসব থেকে বঞ্চিত। অথচ আমরা এসব নেয়ামত লাভ করে তার মূল্যায়ন করি না।

ইসলামে ‘নেয়ামত’ অর্থ কী

রোজা এসব নেয়ামতের গুরুত্ব শিক্ষা দেয়। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অভিজ্ঞতা মানুষকে দরিদ্র ও অসহায়দের প্রতি সহানুভূতিশীল করে তোলে। ফলে দান-সদকা ও মানবসেবার মানসিকতা জাগ্রত হয়।

আত্মসংযমের অনুশীলন

রোজা নিজেই আত্মসংযমের বড় অবলম্বন। এটি নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। ক্ষুধা নফসকে দুর্বল করে এবং আত্মাকে শক্তিশালী করে। যখন নফস তৃপ্ত থাকে, তখন মানুষ গুনাহের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

কিন্তু রোজা তাকে সংযত করে, অহংকার দূর করে এবং উত্তম চরিত্রে সজ্জিত করে। এভাবে মানুষ উচ্চ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠ লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়।

পানাহার মানুষের প্রবৃত্তিকে প্রাবল্য করে। কিন্তু ক্ষুধা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে হাদিসে রোজা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারণ রোজা একটি ইবাদত।

রাসুল (সা.) যুবকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে। কারণ তা দৃষ্টি নিচু করে এবং লজ্জাস্থানকে সুরক্ষিত করে। আর যে সক্ষম নয়, সে যেন রোজা পালন করে; তা তার জন্য কামনা দমনকারী।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩২৬৮)

পানাহার মানুষের প্রবৃত্তিকে প্রাবল্য করে। কিন্তু ক্ষুধা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে হাদিসে রোজা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারণ রোজা একটি ইবাদত।  

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রবৃত্তিকে দমন করা। এটি মানুষের জন্য সংযমের ঢাল হয়ে কাজ করে এবং তাকে পাপ ও বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করে।

রমজান আমাদের জীবনের জন্য আত্মসংযমের পাঠ। পুরো একমাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে বাকি মাসগুলোতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ ও তাকওয়া অর্জনের শিক্ষা দেয়।

মন্দ প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণের উপায়

Read full story at source